বাংলাদেশের
সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করেছেন আরেকজন
জনপ্রিয় লেখক ইমদাদুল হক মিলন। লেখাগুলি তিনি ধারাবাহিকভাবে লিখেছিলেন তাঁর সম্পাদিত
পত্রিকায় – হুমায়ূন আহমেদ যখন শেষবার অসুস্থ হয়ে নিউইয়র্কের হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
বইতে বর্ণিত ঘটনাগুলি বাংলাদেশের পাঠকের জানা। এর অনেক ঘটনা হুমায়ূন আহমেদ নিজেই লিখেছেন
তাঁর বিভিন্ন লেখায়।
২০১২ সালে প্রকাশিত
বইটি পড়লাম সম্প্রতি, হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর ১৩ বছর পর। পৃথিবীবিখ্যাত ক্যান্সার
হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সফলভাবে অস্ত্রোপচারের পরেও হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুটা ভীষণ
দুঃখজনক। বেশ রহস্যজনকও বটে। সেই রহস্যের পুরোপুরি সমাধান এখনো হয়নি। সেটি অন্য প্রসঙ্গ।
পরিচিত ব্যক্তিত্বের
জীবনের ঘটনা – বিশেষ করে মজার এবং ব্যতিক্রমী ঘটনাগুলি বারবার পড়লেও নতুন লাগে। হুমায়ূন
আহমেদের সেইসব ঘটনাগুলির কিছু এবং নিজের লেখক জীবনের বেশ কিছু ঘটনার সন্নিবেশ ঘটেছে
এই বইতে। বইমেলায় হুমায়ূন আহমেদ মিলনের অটোগ্রাফ নিতে গিয়েছিলেন – সেটাই ছিল তাঁদের
দুজনের প্রথম সাক্ষাৎ। এরপর ক্রমশ হুমায়ূনের পরিবারের একজন হয়ে ওঠা। আশির দশকের শুরু
থেকে শুরু করে হুমায়ুন আহমেদের মৃত্যু পর্যন্ত ইমদাদুল হক মিলনের সাথে হুমায়ূন আহমেদের
ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের পারদ কোনোদিন নামেনি।
বইতে স্বাভাবিকভাবে
স্থান পেয়েছে হুমায়ূন আহমেদের সাথে আরো অনেক ব্যক্তিত্বের সম্পর্ক ও বন্ধুত্ব, হুমায়ূন
আহমেদের বাসায় সন্ধ্যাবেলার মজার আড্ডা, দলবেঁধে বেড়াতে যাওয়া, ভালো রান্না এবং খাওয়া-দাওয়ার
প্রতি হুমায়ূন আহমেদের দুর্বলতা – সবই স্থান পেয়েছে। স্মৃতিচারণ – বিশেষ করে বিখ্যাত
কোনো প্রিয় মানুষ যদি ভীষণ অসুস্থ হন – তাঁকে ঘিরে নিজের কথাই বেশি চলে আসবে এটিই স্বাভাবিক।
ঢাকার অনেক
প্রকাশকের কথাও আছে – যাঁরা হুমায়ূন আহমেদের বই বিক্রি করে ধনী হয়েছেন। আছে পশ্চিম
বাংলার লেখক সমরেশ মজুমদার আর সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কথাও।
‘জোছনা ও জননীর
গল্প’ সম্পর্কে আলোচনা আছে অনেকখানি জুড়ে। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে বাংলাদেশের সাহিত্য
যতটা ফলবতী হওয়ার কথা ছিল ততটা হয়নি। হুমায়ূন আহমেদ কিছুটা হলেও চেষ্টা করেছেন। তাঁর
উপন্যাস, নাটক এবং চলচ্চিত্রে বেশ কয়েকবার তিনি মুক্তিযুদ্ধকে তুলে ধরেছেন। তাঁর সর্বশেষ
উপন্যাস ‘দেয়াল’ সম্পর্কে ইতিহাস-বিকৃতি কিংবা মূল ঘটনার অন্যরকম ব্যাখ্যা দেয়ার অভিযোগ
থাকলেও – ওটি একটি উপন্যাস মাত্র – প্রামাণ্য ইতিহাস নয় – ধরে নিয়ে সয়ে নেয়া যায়। ইমদাদুল
হক মিলন সেটি নিয়ে খুব বেশি কথা বলেননি।
এই বইটি হুমায়ূন
আহমেদের প্রতি ইমদাদুল হক মিলনের ব্যক্তিগত স্মৃতিতর্পণ হিসেবে পড়লাম। বইটি প্রমাণ
করে - বড় রাজসিক জীবন যাপন করেছিলেন হুমায়ূন
আহমেদ, ইমদাদুল হক মিলন সেই রাজার মহলেরই একজন।

.jpg)
